বিনাপারিশ্রমিক ছাড়া গান লিখেও, বিনিময়ে পেলেন তিরস্কার- এম এ আলম শুভ

0
114
এম.এ.আলম.শুভ

তরুণ সমাজের এক অসাধারণ লেখায় এম এ আলম শুভ।
গান, কবিতা, উপন্যাস লিখেছেন তিনি, পাশাপাশি রয়েছেন সাংবাদিকতা জীবনের পরিচয়। বিডি এক্সপ্রেস নিউজ মিডিয়া গত ২ বছর ধরেকাজ করছে, এছাড়াও বিভিন্ন বিনোদন সাংস্কৃতিক বিষয়ে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তার ঐ সাথে এক সম্মেলনে নগরবাংলা টিভি কথা বলে এই তরুন, গুনী, মেধাবীদের নিয়ে। এই মহামারীর দিনে আমাদের নতুন আয়োজন,
মহামারীতে কেমন আছে সংগীতের মানুষ গুলো?
পুরো আয়োজনের সাথে থাকবে আমাদের স্পেশাল করোসপনডেন্ট পিজিত প্রসেঞ্জিত মহাজন।
আজ তিনি কথা বলেছেন জনপ্রিয় জনপ্রিয় লেখক এবং গীতিকার
এম,এ ,আলম শুভ র সাথে। দর্শক দের জন্য তুলে ধরেছেন তার জানা অজানা গল্প।

নগরবাংলা:কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তবে মনটা মাঝে মাঝে খারাপ থাকে দেশের মানুষের জন্য। আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেনো এই বিপদ থেকে আমরা খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতে পারি৷

নগরবাংলা: বর্তমানে কর্ম ব্যস্ততা কি নিয়ে?
করোনার জন্য শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছি কিছুদিন হচ্ছে। বর্তমান কর্মব্যস্ততা চলছে নতুন কিছু গানের কথা লিখে, চেষ্টা করছি ঘরে বসে থেকে ভালো কিছু গান লেখার। যাতে শ্রোতাদের ভালো ভালো গান উপহার দিতে পারি।

নগরবাংলা: গত ঈদে আপনার লেখা কোনো গান প্রকাশ পেয়েছে?
গত ঈদ বলতে এই রমজান ঈদে আমার লেখা একটি গান প্রকাশ পেয়েছে। যদিও অনেক গুলো গান রেড়ি থাকার পরেও রিলিজ করা হয়নি করোনার কারনে৷ তবে ঈদে যে গানটি প্রকাশ পেয়েছে সেটি আমার খুব পছন্দের গানের কথা ছিলো। গানটিতে যুক্ত ছিলেন আমার প্রিয় সব মানুষ৷ প্রথমবারের মতো আরফিন রুমি ভাইয়ের সংগীতে গানের কাজ করা হয়। ‘বুকের পাঁজর ছুঁয়ে’ শিরোনামের গানটির সুর ও কন্ঠ দিয়েছিলেন পিয়াস।

নগরবাংলা: আপনার লেখায় কোন গান গুলো বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে?
আমার গান তেমন কোনো গান হিট কিংবা শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা তা বলতে পারবো না৷ কারন এখন ইউটিউবের ভিউ দিয়ে গানের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চায়৷ আমার লেখা গানই গুলো তেমন ইউটিউবে সাড়া পায়নি৷ তবে আমার লেখা কিছু গান কিছু শ্রোতারা গ্রহণ করেছে। আমার লেখা কিছু গানের কথা মাঝে মাঝে শ্রোতাদের ফেইসবুক ওয়ালে দেখি। তার মধ্যে কিছু গানের কথা না বললেই নয়। ‘জানে হৃদয়, কতনা তোকে ভালোবাসি, প্রত্যাবর্তন, রুপকথা, তুই আমার, মেঘকন্যা,এলোমেলো, হারাতে চাই, নীলচে আকাশ, অনুমতি, আড়ালে, জ্যামিতিক তুমি, কাব্য সহ বেশ কিছু গান শ্রোতারা গ্রহণ করছেন৷ বর্তমানে বুকের পাঁজর ছুঁয়ে গানটি নিয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছি৷

নগরবাংলা: নতুন গান কি কি সামনে প্রকাশ পাবে সামনে আপনার লেখায় ?
আমার লেখায় বেশ কিছু গানের কাজ চলছে৷ কোরবান ঈদে রিলিজ করার জন্য চেষ্টা করছি। ‘তোমাকে চাই’ যার সুর সংগীত ও কন্ঠ মশিউর বাপ্পী’র, ভালোবেসেছি তাই হেরেছি, যেটিতে কন্ঠ দিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সন্দীপন মূখার্জী ও চাঁদমনী। ‘সিঁদুর’ যেটির সুর ও কন্ঠ দিয়েছেন পিজিত৷ আভরাল সাহিরের সংগীত ফাহিমা আভরালের কন্ঠে ‘বাবা’, আমার ছোট ভাই মুন্নার কন্ঠে ‘দিবানিশি’ সহ আরো কিছু গানের কাজ ইতিমধ্যেই চলছে৷ যেগুলো খুব শিগ্রই প্রকাশিত হবে৷

নগরবাংলা:গান লেখার পাশাপাশি আর কিছু কি করা হয়?
গান লেখার পাশাপাশি আমি কবিতা, উপন্যাস লেখার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আমি একজন সাংবাদিক৷ প্রতিনিয়ত মিডিয়ার সাথে যুক্ত আটিস্টদের ইন্টারভিউ নিচ্ছি৷ আর নিজের কিছু নিউজপোর্টাল আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছি৷

নগরবাংলা:ছোট থেকেই কি লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন?
একদম ছোট থেকে না, তবে যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন থেকে কবিতা লেখার হাতেখড়ি। এভাবে কবিতা লিখতে লিখতে ২০১৬ সালের দিকে মূলত গান লেখা শুরু করি৷ গান লেখায় সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রামের সিনিয়র সংগীত শিল্পী মাহমুদ খান৷

নগরবাংলা:লেখালিখি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আমার লেখা গান হিট নেই৷ কারন হিট হবে এমন চিন্তা নিয়ে গান লিখিনা। গান লিখে নিজের শান্তির জন্য আর শ্রোতাদের ভালো কিছু গানের মাধ্যমে মেসেজ দেয়ার জন্য। গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বললে বলবো আমি নিজেই নতুন তাই নতুনদের সাথে কাজ করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি৷ ভবিষ্যতে আমি সমাজে সুযোগ না পাওয়া শিল্পীদের জন্য কিছু করতে চাই। ভালো ভালো গানের মাধ্যমে আমার দেশের গানকে বিশ্বে তুলে ধরতে চাই এছাড়াও সিনেমায় গান লেখার ইচ্ছে আছে । চেষ্টা করছি গান নিয়ে শিখতে, এখনো শিখছি, এভাবে শিখে ভবিষ্যতে ভালো একজন গীতিকবি হতে চাই।

নগরবাংলা: গীতিকারদের মধ্যে আপনি কাকে আইডল হিসেবে মানেন?
গীতিকারদের মধ্যে আমার খুব বেশি ভালো লাগে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল স্যারকে। উনার লেখাকে অনুসরণ করে ভালো কিছু লেখার চেষ্টা করি। এছাড়াও রবিউল ইসলাম জীবন ভাই, কবি বকুল ভাই, জাহিদ আকবর ভাইদের লেখা আমাকে আরো লিখতে অনুপ্রেরণা দেয়৷

নগরবাংলা-
আপনার গীতিকার হওয়ার পেছনে কার অনুপ্রেরনা সব থেকে বেশী?
প্রথমত যদি আমার বাবা-মা, ভাই বোন আর কিছু বন্ধুদের সাপোর্ট। তারপর যদি বলি চট্টগ্রামের সিনিয়র শিল্পী মাহমুদ খান আংকেল। উনার থেকে গানের কথা’র হাতে খড়ি। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা পফুল্লা রঞ্জন আংকেলের কাছে৷ উনি আমাকে সর্বপ্রথম গানের লাইনে এনেছেন৷ তবে গান লেখে প্রকাশ করার পিছনে আমার নিজেরই চেষ্টা বেশি। নিজের প্রথম গান নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রকাশ করেছি। গান সম্পর্কে ধারনার অবদান উনাদের হলেও গান লিখে প্রকাশ করা পর্যন্ত চেষ্টা আমার নিজের। এটি কেউ করে দেয়নি।

নগরবাংলা:লেখালেখির মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করার কি পরিকল্পনা আছে?
গান লিখি দেশের জন্যই। গানের মাধ্যমে দেশের মানুষের কথা বলার চেষ্টা করি। আর দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আছে বলেই আমার প্রথম গানের নাম ছিলো ‘একুশ তুমি’। এদেশে গীতিকাররা খুব অবহেলিত, যোগ্য প্রাপ্য পায়না। আমিও পাইনি। তবে যদি যথাযথ সম্মানী পায় তার থেকে একটা অংশ আমি দেশের কল্যাণে ব্যায় করবো ইনশা আল্লাহ।

নগরবাংলা- আপনার লেখায় কারা কারা গান গেয়েছেন??
আমার লেখায় নতুন পুরাতন অনেকে গেয়েছেন তাদের মধ্যে, শহীদ, ইলিয়াস হোসাইন, ফারাবী, মন্টি সিনহা, সাবরিনা সাবা, স্যাম মিশু, শাকিল, রাব্বানি প্রত্যয়, পিয়াস, ইমন, জুলি, সালমান জোবাইদ, সায়েবা সাকী, দৃষ্টি আনাম, সেনিজ, রঞ্জন, এস পি জাহাঙ্গীর আলম সহ অনেকেই কন্ঠ দিয়েছেন।

নগর বাংলা-মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলুন।
ভালোবাসা থেকে কাজ করি বলেই গান লিখি৷ তা না হলে অনেক আগেই মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রি ছেড়ে দিতাম। কারন মিউজিকে যেমন ভালো মানুষ আছে তেমন খারাপ মানুষও। এই মিউজিকে সার্থের জন্য চোখ উল্টাতেও অনেকের সময় লাগেনা। আপনি যাদের নিস্বার্থ ভাবে হেল্প করবেন তারা আপনাকে বলে দিবে তার জন্য কি করেছেন। এছাড়াও এই মিউজিক লাইনে বেশিভাগ শিল্পী সুযোগ সন্ধানী, যার কাছে সুযোগ পাবে তার পা চাটে। অনেকেই সুযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা ভুলে যায়। যারা গীতিকারের সম্মানটুকু করতে জানেনা তারা অশিক্ষিত শিল্পী ছাড়া আর কিছুইনা। আমি এক কথার মানুষ, কারো পা চাটতে পারিনা, সেও স্বভাব আমার নেই তাই আমি এখনো অনেক পিছিয়ে। নিজের যোগ্যতা দিয়ে যা পারি তা কাজ করবো তবে কাজের জন্য কারো পা চাটতে পারবো না। প্রয়োজনে কাজ করবো না৷

নগরবাংলা- আপনার প্রথম উপন্যাস নদীপাড়ের প্রেম নিয়ে কিছু বলুন। সামনে কি কোন বই আসবে?
আমার প্রথম উপন্যাস নদীপাড়ের প্রেম যা পাঠকরা খুব ভালভাবে গ্রহণ করেছে৷ বইটি নিয়ে ভালো রিভিউ পাচ্ছি৷ এই বইয়ের পেছনে অনেক গল্প যা এখন বলা সম্ভব না। তবে সামনের বই মেলার জন্য বেশ কিছু পান্ডুলিপি লেখা শেষ করেছি৷ ছোট গল্পের বই ‘লাশটা এখনো খুনিকে ভালোবাসে, আর কাব্যগ্রন্থ ‘প্রাক্তন’ বই দুটি সামনের বই মেলায় প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে৷

নগরবাংলা: আমাদের সাথে কথা বলে কেমন লাগলো?
ধন্যবাদ নগর বাংলাকে আমাকে ইন্টারভিউ এর যোগ্য মনে করে সুযোগ দেয়ার জন্য৷ আসলে আমি চট্টগ্রামের ছেলে, প্রায় গান লিখেছি ১০০ এর উপরে, বই বেরিয়েছে কিন্ত স্থানীয় পত্রিকা গুলোর কোনো সহযোগিতা পায়নি। যেটা আমি চট্টগ্রাম থেকে আশা করেছিলাম। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আমাকে মনে রাখার জন্য৷

আপনাকে যারা ভালবাসে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন-
আমাকে যারা ভালোবাসে তাদের উদ্দেশ্য একটা কথায় বলবো, আমি একজন ফ্লপ লেখক গীতিকার হওয়ার স্বত্তেও যারা আমাকে শুরু থেকে এখনো অবদি মনে রেখেছেন তাদের আমার মন থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা৷ আপনাদের ভালোবাসার জন্যই আজ এটুকু আসতে পেরেছি। আপনাদের সহযোগিতা আর ভালোবাসায় আজ আমি এম.এ. আলম শুভ৷ যদি আপনাদের হিট গান দিতেও না পারি তবুও চেষ্টা করবো ভালো কথার গান আপনাদের উপহার দিতে৷ আমার পাশে থাকবেন আর আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here