দুই মাসে ৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

0
50

মনির হোসেন ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনুমোদন

শেয়ার না বাড়িয়ে বন্ড ছাড়ছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। গত ২ মাসে ৪ হাজার ১৬০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে ৮টি ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ অনুমোদন দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল-৩ অনুসারে মূলধন বাড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এসব বন্ডের বেশির ভাগই রূপান্তর অযোগ্য। অর্থাৎ মেয়াদি বন্ডগুলো কখনই শেয়ার রূপান্তর করা যাবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুই কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ড ইস্যু করে। প্রথমত, তারা বিনিয়োগকারীদের হাতে বেশি মালিকানা দিতে চায় না। দ্বিতীয়ত, শেয়ার ইস্যু করতে চাইলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের নির্ধারিত হারে শেয়ার নেই। তাদের মতে, এ প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে মূলধন বাড়ালে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হতো।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মূলধন বাড়ানোর একটি উপকরণ হল বন্ড। যারা বন্ড কিনবে, নির্ধারিত মেয়াদের পরে বন্ডের বিপরীতে এদের সুদ দিতে হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ার ইস্যু করলে তুলনামূলকভাবে কমত।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ড অনুমোদনের পরিমাণ বাড়ছে। ৩ সেপ্টেম্বর বিএসইসির ৭৩৮তম কমিশন সভায় ৭১০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৫শ’ কোটি টাকা বন্ড এবং প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের ২১০ কোটি টাকার বন্ড। এছাড়া গত দুই মাসে যেসব প্রতিষ্ঠানকে বন্ড ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হল- এনসিসি ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ৮৫০ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৫০০ কোটি, ওয়ান ব্যাংক ৪০০ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৪০০ কোটি, সিটি ব্যাংক ৪০০ কোটি এবং যমুনা ব্যাংককে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আরও জানা গেছে, ব্যাসেল ৩ অনুসারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোম্পানিগুলো তিনভাবে মূলধন বাড়াতে পারে। প্রথমত, কোম্পানির উদ্যোক্তারা টাকা দেবে, দ্বিতীয়ত, বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু করে এবং তৃতীয়ত, বন্ড ইস্যু করে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের টাকা দেয়া বেশ কঠিন। কারণ সব উদ্যোক্তা সমানভাবে টাকা দিতে পারে না। অন্যদিকে বিদ্যমান আইন অনুসারে কোনো কোম্পানি বোনাস ও রাইট শেয়ার ইস্যু করতে চাইলে ওই কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং প্রত্যেক পরিচালকের ব্যক্তিগতভাবে দুই শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক কোম্পানিতেই উদ্যোক্তাদের ২ শতাংশ শেয়ার নেই। ফলে সর্বশেষ অপশন হিসেবে বন্ডে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা।

অন্যদিকে বতর্মানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২২১টি লেনদেনযোগ্য বন্ড রয়েছে। এসব বন্ডের পরিশোধিত মূলধন ৫৫ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। যা ডিএসইর মোট বাজারমূলধনের ১৫ শতাংশ। শেয়ারবাজারে বন্ডকে ডেট বা ঋণ সিকিউরিটিজ বলা হয়। অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে, নির্দিষ্ট সুদে সরকার যে টাকা ধার নেয় তাকে বন্ড বলে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সুদসহ সরকার আবার অর্থ ফেরত দেয়। আর সেকেন্ডারি মার্কেটে তালিকাভুক্ত হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জনগণ চাইলে বন্ড বিক্রি করতে পারে। উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এখনও বন্ড মার্কেট বিকশিত হয়নি। ১২ বছরেও এসব বন্ডের লেনদেন নেই। বন্ডের উন্নয়নে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ট্রেজারি বন্ড এবং ট্রেজারি বিলের সুদের ওপর কর প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির একজন সাবেক কমিশনার যুগান্তরকে বলেন, দেশে বন্ড মার্কেটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু মূল প্রতিবন্ধকতা হল বর্তমানে সিডিবিএলের কাছে বন্ডের কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ডিপোজেটরি রয়েছে। কিন্তু সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার নেই। এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ডিএসইর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এরপর এ বছর বাজেটে সরকার বন্ডের ওপর থেকে উৎসে কর প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে লেনদেনের ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here